Intermittent  Fasting

বর্তমান সময়ে ওজন কমানোর অনেক পদ্ধতির কথা শোনা যায় এবং সুষ্ঠুভাবে এগুলো করলে হয়তো উপকারও পাওয়া যায়। ওজন কমানোর মুল মন্ত্র তিনটি

১। ডায়েটিং

২। ব্যায়াম

৩। প্রয়োজনীয় জীবন-অভ্যাস

এই তিনটির যে কোন একটিও যদি বাদ পড়ে, তবে ওজন কমানো প্রায় অসম্ভবই হয়ে পড়ে। তাই সম্মিলিত প্রয়োগ বাধ্যতামূলক।

Intermittent Fasting (IF) হল এক ধরনের ডায়েটিং, যা বেশ কার্যকরী এবং আমাদের জন্য সহজ। সহজ এজন্য যে, IF কে আমরা রোজা রাখার সাথে তুলনা করতে পারি। ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি্‌,

 একটা দিনকে ২৪ ঘণ্টায় ভাগ করা যায়। আবার ২৪ ঘণ্টাকে তিন ভাগ করলে, প্রতি ভাগে ৮ ঘণ্টা । IF এ যা করা হয় তা হল, আমরা শুধু একটি ৮ ঘণ্টায় খাবো আর বাকি দুটি ৮ ঘণ্টায় অর্থাৎ ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকবো। আর কখন খাবো, কখন খাবো না, সেটা পুরোটাই নিজের সুবিধার উপর নির্ভর করবে। শুনে চমকে উঠলে? যা ভাবছ, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়, বরং অনেক মজার আর ফলপ্রসু।

ধরা যাক, আপনি চাকুরি করেন, সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে আপনি খাবেন সকাল ৭ টায় এবং পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যে যা বা যতটুকু মনে চায় খাবে। আর খাওয়ার শেষ সময় হবে বিকাল ৩ টা। ৪ টা থেকে শুরু করে পরের দিন সকাল ৭ পর্যন্ত কিছু খাবে না। তবে পানি, লেবু চা, গ্রিন চা খেতে পারো কিন্তু চিনি ছাড়া।

আবার ধরা যাক আপনি চাকুরি করেন দুপুর ২ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে আপনি খাওয়া শুরু করবেন দুপুর ১ টায় এবং চলতে পারবে রাত ৯ টা পর্যন্ত, যতবার খুশি। রাত ৯ টার পর থেকে পরের দিন দুপুর ১ টা পর্যন্ত কিছু খাবে্ন না, তবে রং চা, গ্রিন চা চিনি ছাড়া খাওয়া যেতে পারে।

আসলে বেপারটা এরকম যে, যে কয়েক ঘণ্টা আপনি কাজ করবেন, সেই সময়টা খাবে্ন। কারণ, কাজ করার জন্য আপনার শক্তি দরকার আর ঐ শক্তি পাবেন খাবার থেকে। আর যারা বাইরে কাজ করেন না, তারা তাদের সুবিধা মত সময় বের করে নিবেন ।

মজার ব্যাপার হল, যে ৮ ঘণ্টা আপনি খেতে পারবেন, সেই সময়টা যা খুশি, যত খুশি খেতে পারবে্ন, কোন মানা নেই। কিন্তু শর্ত একটাই, পরবর্তী ১৬ ঘণ্টা খাওয়া যাবে না।

IF এ প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হবে, ক্ষুধা লাগবে, মেজাজও খারাপ হবে, কিন্তু অভ্যাস হয়ে গেলে এটা হবে বিরাট ব্যাপার। মানুষের শরির খুব সহজেই যেকোন কিছুতেই অভ্যস্ত হতে পারে।

এই IF এর সুবিধা বা উপকারিতা অনেকটা রোজার মতো। এতে ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, স্নায়ু রোগ, অতিরিক্ত মেদ বা ওজন কমাতে সহায়তা করে। রোজার সাথে পার্থক্য হল, রোজাতে রোজা রাখা অবস্থায় কিছুই খাওয়া যাবে না, কিন্তু IF এ তরল পানিয় খাওয়া যাবে, তবে চিনি ছাড়া। তবে তার মানে এই না, যে আমি রোজা রাখাকে IF এর চেয়ে ছোট করে দেখছি।

তবে, কোনে সমস্যা বা রোগের জন্য ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হতে হবে।

……… ডাঃ তিনা শুভ্র

2 thoughts on “Intermittent  Fasting

  1. very good article. i request you to write more on these topics, right now i’m thinking about ‘sleep deprivation’. i found some amazing statistics on this topic, how sleep deprivation could impact all body parts of specially those working in corporate world and face lot of stress in work, but this probably is one thing which most of us (including myself) ignore.

    Like

Leave a comment