ভাত ঘুম নিয়ে কথা

দুপুরে ভাত খাবার পর বাঙ্গালী যে একটা ঘুম দেয় সেটাই ভাত ঘুম নামে পরিচিত। দুপুরের খাওয়া মানেই শরীরে একটা আরামদায়ক ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে। এই ঘুম নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কারো কারো মতে এই ভাত ঘুমই ওজন বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার কিম্বা কারো কারো মতে এই ঘুম বেশ স্বাস্থ্যকর।

কেন এই ঘুম পায়ঃ

মানুষের শরীরে রক্তের পরিমান সাধারণত নির্দিষ্ট। এই নির্দিষ্ট পরিমান রক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একই সাথে সরবরাহ হয়- ব্রেইন, শরীরের ভিতরের অংগসমুহ যেমন খাদ্যনালী এবং চলাফেরার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন মাংসপেশি। আমরা যখন খাই, বিশেষ করে ভারি কিছু, তখন রক্তের একটা বড় অংশ খাদ্যনালীতে ব্যস্ত থাকে। জাগা থাকার কারণে চলাফেরার অঙ্গগুলোও রক্ত ব্যবহার করে, ফলে এ সময় বেইনে রক্ত সঞ্চালন অন্য সময়ের চেয়ে কম হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ঝিমুনি  আসতেই পারে। এই ঝিমুনি শরিরকে সাহায্য করার জন্য, যেন ব্রেইন বা মাংসপেশি সে সময় অতিরিক্ত কোন কাজ না করে। এ সম্পর্কে আমাদের আরেকটি ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা মনে করি শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেট বা ভাত খেলেই ঘুম পায়। এ ধারণা ভুল। প্রোটিন জাতীয় খাবারের বেলায়ও এ ঘটনা ঘটে থাকে, শুধু পার্থক্য হল পরিমান। তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন দুপুরের খাবার বেশি ভারি না হয়ে যায়।

দুপুরে খাবার খেয়ে কি করবঃ

দুপুরের খাবার খাওয়ার সাথে সাথে না ঘুমিয়ে ১০/১৫ মিনিট পরে বিশ্রাম নিন বা ছোট্ট একটা ঘুম দিন। খাবার পর পরই পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য এসিডের পরিমান থাকে বেশি। তাই এসময় ঘুমালে বুক জ্বালাপোড়া বা গলা জ্বলার মতো অস্বস্তিকর অবস্থা হতে পারে।

চাইলে খাবার পরপরই আমরা টেবিল গুছানো, থালা-বাসন ধোয়া, খাবার ঘর পরিষ্কার করে ১০/১৫ মিনিট কাটিয়ে দিতে পারি। তাই ওজন কমানোর জন্য খাবার খাওয়ার সাথে সাথে না ঘুমিয়ে ১০/১৫ মিনিট হাল্কা হাঁটাহাঁটি করুন। তারপর না হয় একটু বিশ্রাম বা ছোট্ট ঘুম দিতে পারেন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে, ঘুম যেন গভীর বা লম্বা সময় ধরে না হয়। লম্বা গভীর ঘুম আবার ওজন বাড়ানোর ভালো হাতিয়ার। এক্ষেত্রে আপনি আপনার ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমাতে পারেন, তাতে ঘুমটা গভীর আর লম্বা হবে না, কিন্তু একটা ভালো বিশ্রাম হবে।

ভাত ঘুম কি উপকার করেঃ

২০/২৫ মিনিটের ছোট্ট এই ঘুম আপনাকে দিতে পারে আরেকটা নতুন দিনের মত অনুপ্রেরনা। এই ভাত ঘুম আমাদের…,

১। শরীর চাঙ্গা ও সতেজ করে।

২। কাজ করার আগ্রহ, উৎসাহ ও কর্ম দক্ষতা বাড়ায়।

৩। শারিরিক ও মানসিক চাপ কমায়।

৪। স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং নানা বিপদের ঝুঁকি হতে রক্ষা করে।

৫। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

তবে যদি কারো অনিদ্রা বা দুশ্চিন্তা রোগ থেকে থাকে বা যাদের রাতে ভালো ঘুম হয় না, তাদের জন্য ভাত ঘুম কেন, কোন ঘুমেই এই সূত্র খাটে না। তাদের উচিৎ হবে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার।

……ডাঃ তিনা শুভ্র

https://teenasuvrosworld.wordpress.com

(Weight Reduction and Life Style Medicine)

Leave a comment