হাঁটুন, হেঁটে হেঁটে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমান


…………………………………….

ক্যান্সার শুনলেই আমরা ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই, বাঁচার আশা একেবারেই ছেড়ে দেই। ক্যান্সার আসলেই একটি জটিল ও মারাত্মক রোগ। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়লে, তা সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাই শরীরে যে কোন রোগ বা সমস্যা থাকলে অতি দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আপনি কি জানেন, ওবেসিটি বা অতিরিক্ত মোটা শরীর নানা ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়?

আপনি আরও জানেন কি, যদি আপনার ক্যান্সার হয়েও থাকে, আর আপনি যদি স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখেন, তাহলে সে ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব?

আজ আমরা আলাপ করবো, ক্যান্সারের জন্য অতি মোটা দেহ কিভাবে দায়ি এবং স্বাভাবিক ওজন ক্যান্সার প্রতিরোধে কতটা কার্যকরী।

ব্রিটেনে এখন সাধারণ চার ধরনের ক্যানসারে অনেক ক্ষেত্রে ধূমপানের চেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠেছে স্থূলতা বা ওবেসিটি। তারা জানিয়েছে, খাদ্যনালী, কিডনি, ওভারিয়ান, ব্রেস্ট এবং লিভার ক্যান্সারের কারণ অতিরিক্ত ওজন।

তারা আরও জানান, লাখ লাখ মানুষ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছে তাদের ওজনের কারণে এবং এসব মোটা মানুষদের ক্যানসারের আশঙ্কা ধূমপায়ীদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আসুন দেখে নেই যে, ঠিক কি কারণে ওবেসিটিতে ক্যান্সার হতে পারে,

১। মোটা দেহে, ফ্যাটসেল গুলো বেশি বেশি করে বাড়তি হরমোন ও গ্রোথ ফ্যাক্টর ছাড়ে যা ক্যান্সারসেল গুলোর পরিমান বাড়িয়ে দেয়।

২। মোটা শরীরে ফ্যাটসেল এর পরিমান থাকে বেশি আর এগুলো আকারেও বড় হয়। ফলে এদের ফাঁকে ফাঁকে অক্সিজেন কম কম থাকে। অক্সিজেন কম থাকার কারনে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকগুন বেড়ে যায়।

৩। ফ্যাটসেল গুলো খুবই সক্রিয় হয়। মোটা দেহে এদের পরিমানও বেশি থাকে। এরা সর্বদা পুরা শরীরে সিগন্যাল পাঠায় এবং ক্ষতি সাধন করতে থাকে।

তবে মোটা হলেই যে কেবল ক্যান্সার হবে তা নয়, এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হয়তো ভাবছেন কি করলে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করবেন, আসুন জেনে নেই,,

ক্যান্সার কাউন্সিলের পরামর্শ অনুযায়ী, কেবল তিনটি কাজই আপনাকে এনে দিতে পারে সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন, তা হোল

১। শরীরে সর্বদা স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা।

২। প্রতিদিন শারীরিকভাবে সচল থাকা।

৩। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর সুষম খাদ্য খাওয়া।

কিভাবে নিজেকে তৈরি করবেনঃ

. প্রতিদিন ৬০ মিনিট করে মাঝারি ধরনের ব্যায়াম বা মাঝারি গতিতে হাঁটতে পারেন।
অথবা
. প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে জোরালো ধরনের ব্যায়াম বা জোরে জোরে হাঁটা বা দৌড়াতে পারেন।

প্রতিদিন নিয়মমতো হাঁটলে, ওবেসিটি বা অতি মেদ কমতে থাকে, এতে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। শুধুমাত্র মোটা লোকজনই নন, নিয়মিত হাঁটলে বা ব্যায়াম করলে যেকোন স্বাস্থ্যের মানুষের জন্যই হতে পারে একটি আশীর্বাদ বা ক্যান্সার প্রতিরোধক।

যে কোন রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

…………………….

……তিনা শুভ্র

https://teenasuvrosworld.wordpress.com
(Weight reduction and Life-Style Medicine)

Leave a comment