রক্তে হাই কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ৫ টা মূলনীতি মেনে চলুন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বে বর্তমানে যেসকল রোগে মানুষের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লোক হৃদরোগের কারণে মারা যায়। হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ার একটি প্রধান কারন হল, রক্তের ভেতরে ভাসমান কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড।

তাই, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। কেবলমাত্র কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।

প্রত্যক্ষভাবে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করার লক্ষ্যে পাঁচটি মূল নীতি রয়েছে।

১। স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের ব্যাবহার কমানোঃ

চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব খাবারে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট-বাঁধা চর্বি থাকে, সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও।

প্রাণীজ উৎস থেকে যে ফ্যাট আসে, তা কমিয়ে দিতে হবে, যেমন, লাল মাংস, কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা, ডিমের কুসুম, চিংড়ি মাছ, চর্বিযুক্ত দুধ ইত্যাদি। এরা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমান বাড়িয়ে দেয়।

অপরদিকে, সামুদ্রিক মাছ, উদ্ভিজ্জ উৎস, যেমন, বিভিন্ন রকমের ডাল ও বিচি, বাদাম, শাক সবজী ও ফলমূল ইত্যাদি খাওয়া বাড়াতে হবে। এরা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দেয়।

২। ট্রান্স ফ্যাট বাদ দেয়া:

হোটেল বা দোকানের একই তেলে, বারে বারে ভাজা যেকোনো খাবার যেমন, জিলাপি, সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, পিয়াজি, বেগুনি, আলুচপ, নানা পদের বিস্কুট, চানাচুর ও চিপসের মতো বেকারি পণ্যে, পিৎজা, ফ্রাইড চিকেন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি খাওয়া বাদ দিতে হবে। কারন, এই ধরনের তেল রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলকে সরাসরি বাড়িয়ে দেয়। একই সাথে বাসার রান্নায়, একই তেল বারে বারে ব্যাবহার করা যাবে না এবং উচ্চ তাপে বেশিক্ষণ তেল ভাজা যাবে না। মাঝারি বা কম তাপে, তেল রান্নায় ব্যাবহার করতে হবে।

৩। কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার কম খাওয়াঃ

গরু/ খাশি/ ভেড়ার মাংস, ডিমের কুসুম, চিংড়ি মাছ এবং ক্রিম যুক্ত দুধ ও ক্রিম যুক্ত দুধের তৈরি খাবারের মধ্যে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অধিক হয়ে থাকে। তাই এইসব খাবার পরিমানে কম খেতে হবে।

৪। খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা খাদ্য আঁশ যোগ করাঃ

সকল প্রকার শাক সবজী, ফলমূল, বিভিন্ন রকমের ডাল ও বিচি, বাদাম এগুলোতে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যায়। এই খাদ্য আঁশ বা ফাইবার রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলকে মলের সাথে শরীর থেকে বের করে দেয়।

৫। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করাঃ

প্রতিদিন নিয়মিত ৪৫-৬০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করলে, শরিরের ভালো কোলেস্টেরলের পরিমান বাড়তে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমান কমতে থাকে।

মুল কথাঃ

১। সকল প্রকার প্রাণীজ উৎস থেকে আসা খাবার, পরিমানে যথাসম্ভব কম খেতে হবে।

২। সকল প্রকার উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আসা খাবারের পরিমান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে।

৩। উচ্চ তাপে, একই তেলে বারে বারে ভাজা যেকোনো খাবার, বাদ দিতে হবে। চাইলে নিজ ঘরে বানিয়ে খান।

৪। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করে বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরিরকে চালু রাখতে হবে।

যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

…… তিনা শুভ্র ।

Leave a comment