ফোবিয়া বা আতঙ্ক কি, চলুন জেনে নেই…।


ভয় বা ভীতি মানুষের একেবারে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। অতি ছোটবেলা থেকেই আমরা নানান বিষয়ে ভয় পেয়ে আসছি, আবার পরবর্তীতে, সেই ভয় কেটেও গেছে। তবে ফোবিয়া মূলত এক ধরণের অযৌক্তিক ও অত্যধিক ভয় যেটার পরিমাণ সাধারন ভয় থেকে কয়েক গুণ বেশি হয়ে থাকে। তাঁর ফলে ব্যক্তি সাংঘাতিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও, এরা বিশেষ কিছু পরিস্থিতি বা জিনিষের থেকে অযৌক্তিক ভয় পয়। এইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে অসুস্থ-বোধ করে, যেমন রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া, মাথা ঘোরানো বা ঘামে ভিজে যাওয়ার মত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়পড় করা, বুকে চাপ বা ব্যাথা ইত্যাদি।

সাধারণত, দুই ধরনেরে ফোবিয়া দেখা যায় , তবে পৃথিবীতে প্রায় ৪০০ এর বেশি রকমের ফোবিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে।
সোশ্যাল ফোবিয়া হলো নিজেকে সমাজে মেলামেশার অনুপযুক্ত মনে হওয়া। এরূপ আক্রান্ত ব্যক্তির সব সময়ই যেন মনে হয়, পাছে লোকে কিছু ভেবে বসে। কেবলই মনে হয়, সবাই যেন তার আচার-আচরণ খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে বা তার সম্পর্কে খারাপ কিছু ভাবছে। ফলে কথা বলার সময় ওই ব্যক্তি বেশি সচেতন হয়ে পড়ে, অস্বস্তিতে নার্ভাস অনুভব করে এবং লজ্জা পায়। এসবই মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
আর স্পেশাল ফোবিয়া হলো বিশেষ কোনো পরিস্থিতি বা নির্দিষ্ট কোনো জিনিসে অকারণে অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, যেমন- জীবজন্তু যথা সাপ, কুকুর, মাকড়সা ইত্যাদিতে ভয়, উঁচু জায়গা, পানি, অন্ধকার ইত্যাদিতে ভয়; বদ্ধাবস্থা যথা লিফট, টানেল ইত্যাদি অবস্থানে ভীতি, রক্ত, আঘাত, অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভয় পাওয়া এবং নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুভয়।

এধরনের রোগীর সাথে, কখনো জোর করবেন না বা ভয় নিয়ে মজা করবেন না। মনে রাখবেন ওই পরিস্থিতি বা জিনিসগুলি তাদের কাছে সাংঘাতিক আতঙ্কের। বরং তাঁকে সঠিক চিকিৎসা নিতে উৎসাহ নিন এবং সেই মত সাহায্য করুন।

সাধারণত কোন ফোবিয়া থাকলে সেটাকে এড়িয়ে যাওয়াটাই আমাদের অভ্যাস। যেহেতু দৈনন্দিন জীবনে এর কোনও প্রভাব থাকে না তাই আমরা এই সমস্ত জিনিষ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাটাই পছন্দ করি। কিন্তু এই এড়িয়ে চলাটা এর সমাধান নয়। উচিত হবে একজন মনো রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া। কারণ, ফোবিয়া সারানো সম্ভব, ফোবিয়া হয়ে যাওয়া মানে পাগল হয়ে যাওয়া নয়।

যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

……তিনা শুভ্র ।

Leave a comment