………………………
চর্বি বা তেলের মধ্যে একটি উপাদান রয়েছে, যা মানুষকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘাতক রোগ- হৃদরোগের দিকে ধাবিত করে, তা হলো কোলেস্টেরল। শরীরে বেশি কোলেস্টেরল জমে গেলে তা হার্টের রক্তনালী এবং ব্রেইনের রক্তনালীতে রক্ত চলাচলে বাঁধা দেয়। এই কোলেস্টেরল অতিরিক্ত গ্রহণের ফলাফল- হার্টের নানান রোগ, হার্ট অ্যাটাক, ও স্ট্রোক। তাই বর্তমান স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা , সাধারণ মানুষকে চর্বিদার লাল মাংস ও তেল এড়িয়ে নিরামিষভোজী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ।
আপনি কি জানেন, আমাদের খাবারের প্রায় ১০০ ভাগই, এক ফোঁটা তেল ছাড়া রান্না করা যায়? এমনকি মচমেচে ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করতেও কোনো তেলের দরকার পড়ে না। যদিও অধিকাংশ রাধুনীই জানেন না যে তেল ছাড়াও মজাদার খাবার রান্না করা যায়। বর্তমানে হৃদরোগীদের জন্য বিনা তেলে রান্না খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
চলুন জেনে নেই কিভাবে বিনা তেলে বা একেবারে অল্প তেলে খাবার রান্না করা যাবে,,,,
১। মাছ-মাংস টক দই দিয়ে ম্যারিনেট করে রাখুন। যদি ৭-৮ ঘণ্টা মাংস ম্যারিনেট করতে পারেন, তা হলে মাংসও নরম হবে এবং রান্নার সময় অনেকটাই তেল ছা়ড়বে। তাতে তেল কম লাগবে। মাছ বা কোনও সব্জিও একই ভাবে রান্না করতে পারেন।
২। যে কোনও খাবার ভাপিয়ে রান্না করলে তেল লাগবে না। এতে পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে এবং খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকরও হবে। এখন বাজারে নানা রকম স্টিমার পাওয়া যায়। বাড়িতে রাইস কুকার থাকলেও স্টিম করতে পারেন। না থাকলে একটি কড়াইয়ে পানি ফুটিয়ে তাতে একটি স্ট্যান্ডে বাটি বসিয়ে দিন। সেই বাটিতে রান্না করুন।
৩। তেল ছাড়া বা একদম কম তেলে রান্না করতে চাইলে খানিকটা অলিভ অয়েল ব্রাশ করে সব্জি বা মাছ-মাংস সহজেই বেক বা রোস্ট করে নিতে পারেন।
৪। রান্নায় তেলের ব্যাবহার কমানোর জন্য, তেল স্প্রেয়ের বোতলে ঢেলে নিয়ে, তারপর রান্নার সময় তেল স্প্রে করে নিন। এতে অল্প তেলেই রান্না করতে পারবেন।
৫। বিনা তেলে পেঁয়াজ ভাজতে চাইলে, তেলের বদলে ২ চামচ করে পানি দিয়ে ভাজতে থাকুন। অল্প অল্প পানির ছিটা দিয়ে পেয়াজ ভাজতে হবে। । তবে বেশি পানি দিবেন না, এতে পেঁয়াজ সেদ্ধ হয়ে যাবে।
৬। মসলা কষাতে তেলের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করুন।
৭। ডুবো তেলে না ভেজে, ওভেনে বেক করে নিতে পারেন, কিংবা গ্রিল বা বারবিকিউ করেও খেতে পারেন।
আমরা সাধারণত যে সকল খাবার খাই, সেগুলো থেকেই আমরা প্রাকৃতিকভাবে তেল পেয়ে থাকি। তাই বাড়তি তেল গ্রহণ না করলেও চলে। রান্নার স্বাদ ও পুষ্টিমান নির্ভর করে মসলায়, তেলে নয়। গবেষক ও শেফরা এসব কথা স্বীকার করেছেন।
আপনি চাইলে বাড়িতে একদিন তেল ছাড়া এক পদের রান্না, পরীক্ষামূলক ভাবে করতে পারেন। আর পরিবারের সদস্যদের না বলে পরিবেশনও করাতে পারেন। দেখবেন তারা বিনা তেলে রান্নার তফাৎ টা একেবারেই ধরতে পারবে না।
বিনা তেলে রান্নার নানান পদ্ধতি জানতে চাইলে, ইউটিউবে দেখতে পারেন।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
……তিনা শুভ্র ।
