শুচিবায়ু কে ইংরেজিতে বলা হয় Obsessive-compulsive disorder (OCD)। শুচিবায়ু কে anxiety disorder বলা হয়। শুচিবায়ু মানসিক রোগের দুইটি অংশ আছে। একটি হচ্ছে অতিরিক্ত চিন্তা করা বা একই চিন্তা বারবার করা যাকে বলা হয় অবসেসশন আর একটি অংশ হল একই কাজ বার বার করা যাকে বলা হয় কম্পালশন।
কি বুঝতে পারছেন না, তাইনা, আসুন উদাহরণ সহ জেনে নেই,
শুচিবায়ু আসলে একটি মানসিক রোগ। এ রোগে, যে কোনো কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তি ধারণা করে যে, কাজটি মনমতো হয়নি। তাই অনেক সময় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই কাজ করতেই থাকে। যেমন-হাতে ময়লা লেগেছে বলে বারবার হাত ধোয়া, বেশি সময় ধরে গোসল করা, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্যাসের চুলার সুইচ বন্ধ করেছে কিনা একাধিকবার পরীক্ষা করা। এছাড়া, অনেকের চিন্তার ধরন ধর্মীয় বিষয় নিয়েও হতে পারে। যেমন নামাজে দাঁড়ালে তাৎক্ষণিক মনে হয় আল্লাহ নেই অথবা নাস্তিক্যবাদী চিন্তা। কখনো সন্দেহ হয় নামাজে কোনো ফরজ বাদ পড়েছে বা নামাজের সূরা পড়তে গিয়ে কোনো আয়াত বাদ পড়েছে। এই চিন্তাগুলো বারে বারে আসার কারণে নামাজ ভেঙে রোগী পুনরায় নামাজ আদায় করতে যায়। এভাবে চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। এ রোগীদের, দিনের শুরুতে একটি চিন্তা মাথায় ঢুকে গেলে, বারবার তা নিয়ে চলতে থাকে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ, তারা শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন না। মাঝে মাঝে রোগীর মনে হয় কোনো কাজ তিনবার বা পাঁচবার না করলে শুদ্ধ হবে না, কোনো একটি বিশেষ বাক্য উচ্চারণ না করলে অন্যায় হবে, মসজিদে দাঁড়িয়ে ধর্মবিরোধী নোংরা কথা উচ্চারণ করার চিন্তা মাথায় আসে। রোগী নিজেকে পাপী, অপরাধী মনে করে এবং ধীরে ধীরে হতাশায় ভুগতে থাকে।
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। এর কারণ হচ্ছে এটি যে একটি রোগ, আক্রান্ত ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন না। নিজের সমস্যা লুকিয়ে রাখেন এবং এ নিয়ে আলোচনা করতে লজ্জাবোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত ব্যক্তি যখন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তখনই রোগের কারণ খুঁজতে গিয়ে তা বেরিয়ে আসে।
গ্রামাঞ্চলে অনেকের ধারণা শুচিবায়ু রগের কারণ হচ্ছে, শয়তানের বা জিনের আসর। তাই তারা ছুটে যান ফকির কবিরাজের কাজে সমাধানের জন্য।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, আক্রান্ত ব্যক্তিরা বাড়ির লোকের কাছে খুবই ঘৃণার পাত্র হয়ে ওঠেন, যার অন্যতম কারণ হল, আক্রান্ত ব্যাকটি দ্বারা বাকি অন্যান্য মানুষের সময় নষ্ট হয়ে থাকে, যেমন অনেকক্ষণ ধরে বাথরুম আটকে রাখা, বা একই কাজ বার বার করা এবং অন্যকে দিয়ে করানোর ফলে স্বাভাবিকভাবেই পাশের মানুষগুলিকর মধ্যে রাগ হয়, এবং তাঁরা ভাবেন রোগী হয়তো ইচ্ছা করেই এমনটা করেন এবং চাইলেই এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। রোগী নিজে থেকে চাইলেই একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আর এর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা।
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, যে, কম বেশি তো অনেকেরই এমনটা হয়, তাহলে কি সকলেই ওসিডি আক্রান্ত?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যদি এমনটা টানা দুই সপ্তাহের বেশি ধরে চলতে থাকে, এবং এতে করে যদি কাজকর্ম এবং সামগ্রিকভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যহত হয়, তাহলে বুঝবেন আপনি ওসিডি আক্রান্ত।
শুচিবায়ু রোগের প্রধান দুটি চিকিৎসা হল সাইকোথেরাপি এবং ওষুধ।
মনে রাখবেন শুচিবায়ু রোগ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ভালো হয় । তাই আজই দেরি না করে মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
……তিনা শুভ্র ।
