……………….
……………..
ঈদ উপলক্ষ্যে সবার ঘরেই নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও আত্মীয় ও বন্ধুদের বাসাতেও ঈদে দাওয়াত থাকে। সব মিলিয়ে ঈদ ও এর পরবর্তী দিনগুলোতে সবাই কমবেশি সুস্বাদু ও মজাদার খাবার খাওয়ার মধ্যেই থাকেন। আর সুস্বাদ খাবার সামনে পেলে জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবার জন্যই কষ্টকর। তাই ঈদে না চাইলেও আমাদের খাওয়া হয়ে যায় অনেক বেশি।
একমাস রোজা রাখার ফলে যেহেতু আমাদের শরীর কিছুটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় তাই ঈদের দিন হঠাৎ বেশি খাবারে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বদহজম, পেটফাঁপা, এসিডিটি, গ্যাস, বমি, পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে।
কিন্তু তাই ঈদে সুস্থ থাকতে খেয়াল রাখবেন- আপনি কী খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন, সেসব খাবারের কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে আপনার শরীরের উপর
ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি।
এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় হলঃ
১। ঈদের দিন অল্প পরিমাণে খাবার খান। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে অতিভোজন করবেন না। খাবার খাওয়ার জন্য আপনাকে হয়তোবা জোরাজোরি করা হবে, কিন্তু আপনার করণীয় হলো সকল খাবারের মধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারটি অল্প পরিমাণে খাওয়া।
খাবারের পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাটা সবার জন্যই জরুরি। পেট পুরে খাওয়া মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে বটে কিন্তু শরীরের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। একবারে বেশি না খেয়ে, পরিমাণে অল্প খাওয়া ভালো। সকালের নাশতা একটু বেশি হলেও দুপুরের খাবার হবে হালকা। রাতের খাবার মশলাদার না হওয়াই ভালো। আর রাতের খাবার খাওয়া উচিত তাড়াতাড়ি। রাতে খাওয়ার অন্তত দু’ঘণ্টা পর শুতে যাওয়া উচিত, তাতে হজম ভালো হয়।
২। দুপুর এবং রাতের খাবারে অবশ্যই প্রচুর সালাদ, লেবু রাখুন।
৩। ঈদের খাবারের মেনুতে টক দই, বোরহানি ও লেবু পানি অবশ্যই রাখুন। সারাদিন প্রচুর পানি পান করুন। ভারী খাবার খাওয়ার এক/ দেড় ঘণ্টা পর লেবু পানি পান করতে পারেন।
৪। ঈদে দুপুরে ভারী খাবার খাওয়ার দেড়/দুই ঘণ্টা পর ৪৫/৬০ মিনিট হাঁটুন। হাঁটলে বা ব্যায়াম করলে আপনি বেশ সতেজ অনুভব করবেন, হজমও ভালো হবে। এই হাঁটা ঈদের সময় ভারী খাবারজনিত অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। ফলে ওজনও ঠিক থাকবে।
৫। অনেকে মনে করেন, ভারী খাবার খাওয়ার পর হজমের জন্য কোমল পানীয় পান করা ভালো কিন্তু আসলে সেটা ঠিক নয়। কোমল পানীয়তে প্রচুর চিনি থাকে এবং এটি আপনার শরীরের কোনো উপকার করে না। ভালো হজমের জন্য কোমল পানীয়ের পরিবর্তে বোরহানি খেতে পারেন।
৬। অল্প পরিমাণে খাবার খেয়ে টেবিল থেকে বাকি খাবার সরিয়ে ফেলুন। কারণ টেবিলে খাবার থাকলে সেদিকে চোখ যাবে এবং আপনার মনে আরো খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে।
৭। ঈদের দিন সকাল বেলা সব বাড়িতেই মিষ্টি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। ঈদের দিনে মিষ্টি খাওয়ার এই রেওয়াজ যতদূর সম্ভব সীমিত রাখাই ভালো। যাদের ডায়াবেটিস আছে, ওজন বেশি কিংবা ওজন বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের মিষ্টি না খাওয়াই ভালো। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, যত বেশি মিষ্টি খাবার খাওয়া হবে, শরীরে তত বেশি চিনি যাবে এবং অতিরিক্ত চিনি স্বাস্থ্যের নানারকম ক্ষতি করে। তবে মিষ্টির বিকল্প হিসেবে টক দই খাওয়া যেতে পারে। টক দইয়ে থাকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, কম চিনি ও কম ক্যালরি।
৮। যদি কারো দিনের বেলায় একাধিক বার খাওয়া হয়, সেক্ষেত্রে রাতে পানি ছাড়া কিছু না খাওয়াই শ্রেয়। এতে পাকস্থলী বিশ্রাম পাবে, খাবার হজমেও সহজ হবে।
পরিমিত খাবার গ্রহণের জন্য ইসলামে নির্দেশ রয়েছে। রাসূল সা: বলেছেন, “তোমরা খাওয়ার সময় পাকস্থলীর তিন ভাগের এক ভাগ পূরণ করে খাও। এক ভাগ পানি দ্বারা পূরণ করো, আর এক ভাগ খালি রাখো শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য।” তাই শুধু ঈদেই নয়, সবসময়ই আমাদের রাসূল সা:-এর এই হাদিস অনুসরণ করার চেষ্টা করা উচিত।
বদহজম, পেট ফাঁপা, বমি, পাতলা পায়খানা, এসিডিটি, পেটে অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা যদি বেশি মাত্রায় হয়, তাহলে রিচ ফুড এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে। সঙ্গে সাধারণ গ্যাসের ওষুধ কিংবা খাবার স্যালাইনও খেতে হতে পারে।
এসব সমস্যা আসলে দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সাধারণত দু-এক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। তারপরও যদি কারও এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…… তিনা শুভ্র ।।
