আপনি কি পুরো বছর জুড়েই হাঁচি/কাশিতে ভুগছেন? কিংবা রাতে ঘুমাতে গেলে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠলেই আপনার অতিরিক্ত হাঁচি/কাশি হয়? জেনে নিন কি করবেন…।

………………

মাঝে মধ্যে হাঁচি/কাশি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রথম প্রথম কেউ এ গুলো রোগ বলে মনে করেন না। ভাবেন এমনিতে সেরে যাবে। তবে যখন বারবার ও একটানা হতে শুরু করে, তখন নিজে নিজেই অথবা ওষুধের দোকানদারের সঙ্গে আলাপ করে দুএকটি অ্যান্টিহিস্টামিন খেয়ে নেন। এতে রোগের লক্ষণ কিছুটা আরাম হয়। এরকম হলে ধরে নিতে হবে আপনি সম্ভবত এলার্জিজনিত রোগে ভুগছেন এবং দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সকালে ঘুম থেকে ওঠা মাত্রই কিংবা রাতে শুয়ে, গায়ে চাদর টানলেই হাঁচি/কাশি শুরু হয় কিংবা পুরনো বইয়ের তাকে বই খোঁজা, এসি ঘরে থাকা, পুরানো জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে গেলে বা ফুলের গন্ধ নিলে বা ফুলের বাগানে হাঁটলে, এমনকি রাস্তায় বের হলেই, হাঁচি/কাশি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়তে চায় না৷ ঠান্ডা লাগার কোনই কারণ নেই, তাও হাঁচি হতেই থাকে একটানা। এবং হাঁচি/কাশির সাথে গা চুলকানো, চোখ জ্বালা, শ্বাস নিতে কষ্ট, চোখ ছলছল, নাক দিয়ে সর্দি জল পড়া, প্রায়ই মাথার যন্ত্রণা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ গুলো একসাথে থাকে। আর এগুলোও সাধারণত হয় ওই অ্যালার্জির কারণে।

প্রতিকারের উপায়:

. শরীরের ইমুইনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই হোল, অ্যালার্জি প্রতিরোধের মুল অস্ত্র। এক্ষেত্রে সুষম খাবার খাওয়া, রেগুলার হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করা, পেট পরিষ্কার রাখা, রাতে ৭/৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা, মানসিক অশান্তি বা দুশ্চিন্তার চিকিৎসা করানো খুবই জরুরি।

. ঠিক যে যে কারণে হাঁচি/কাশি বা অ্যালার্জি হয় বা হতে পারে, সেগুলো থেকে দুরে থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে চাইলে একটি ডায়েরীতে লিখে রাখতে পারেন যে, কোন কোন অবস্থায় বা কোন কোন খাবারে আপনার এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

. বাইরের ধুলোবালি থেকে বাঁচতে, বেরনোর সময় নাকে মাস্ক চেপে বেরনো উচিত৷

. ঘরের কার্পেট, বিছানার তোশক, পর্দা, আসবাবপত্র রেগুলার পরিষ্কার করা উচিত৷

. ঘরের ভিতরে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যাবস্থা রাখতে হবে।

. বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে, তাদের রেগুলার গোসল করানো ও টিকা দেয়া উচিত৷ কেননা, কুকুর/ বিড়ালের গায়ে থাকা পোকামাকড় থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে।

. বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে গা-হাত-পা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া উচিত৷

. নাক দিয়ে গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। রাতে ঘুমানোর সময় হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে, তা নাক দিয়ে টানতে পারেন।

. নাক বেশি বন্ধ থাকলে, ন্যাজাল স্প্রে ব্যাবহার করতে পারেন।

ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ খাওয়ার পরও যদি লক্ষণ দূর না হয় কিংবা নতুন লক্ষণ দেখা দিলে কিংবা সমস্যা আরও বেড়ে গেলে
মারাত্মক এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে, অতিদ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

এই হাঁচি/কাশি বা অ্যালার্জিকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দেই না, যেটা মোটেই ঠিক নয়। এলার্জিক উপাদানের প্রতি, তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে, “অ্যানাফাইল্যাক্সিস” নামক একটি জরুরি অবস্থা তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এমন রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। তবে সময়মতো একটি ইনজেকশন দিলেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব।

এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্‍সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।

যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

…….. তিনা শুভ্র ।।

Leave a comment