……………..
জীবনের কোনো না কোনো সময়, প্রায় সবাই ব্রণে আক্রান্ত হতে পারেন।
ব্রণ আসলে টিন এজারদের বেশি হয়। ৮০/৮৫% টিন এজারদের মুখে ব্রণ দেখা যায়। আবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানে ২২/২৩ বছরের পর থেকে, ব্রণ কমতে শুরু করে। টিন এজার বয়সে, একটা ছেলে অথবা মেয়ের হরমোনাল কিছু ইমব্যালেন্স বা পরিবর্তন দেখা যায় এবং এই জন্য ওই সময়গুলোতে ব্রণ বেশি হয়।
আমাদের স্কিনের ঠিক নিচেই থাকে সেবেসিয়াস গ্ল্যান্ড, যা থেকে নিঃসৃত সিবাম বা তেল আমাদের ত্বককে নরম রাখে। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। সেই গ্ল্যান্ডের মুখ কোনও কারণে আটকে বা বন্ধ হয়ে গেলে, তার থেকে জন্ম নিতে পারে ব্রণ।
সাধারণত বয়ঃসন্ধি কালে, যখন ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের এনড্রজেন হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন স্কিনে যে সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থাকে, সেগুলো আকারে বড় হয় এবং প্রচুর সিবাম বা তেল নিঃসরণ করে। অতিরিক্ত তেল তখন ময়লা বা অন্যান্য উপাদানের সাথে মিলে স্কিনের ঐ ছিদ্রগুলো ব্লক বা বন্ধ করে দেয়, ফলে দেখা দেয় ব্রণ। সাধারণত, মুখ, কপাল, নাক এবং গালের মতো অঞ্চল গুলি ব্রণ দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়, কারণ ওখানেই বেশিরভাগ তেল নিঃসৃত হয়।
কি কি কারণে ব্রণ হতে পারেঃ
. ত্বকের অযত্ন ও অবহেলা করলে এবং নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার না করলে খুব সহজেই ব্রণ হতে পারে। এছাড়াও ব্রণ হবার অন্যান্য কারণগুলো হল, দূষণ, ময়লা, মেকআপ, বংশগত কারণ, অতিবেগুনী সূর্যের রশ্মি, এবং উচ্চ স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ইত্যাদি স্কিনের ছিদ্রগুলো ব্লক বা বন্ধ করে দিতে পারে, যার কারণে ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে।
. স্ট্রেস বা মানসিক অশান্তি বা দুশ্চিন্তা হল ব্রণের আরেকটি বড় কারণ।
. রাতের ঘুম ঠিকমতো একটানা না হলে।
. হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি থাকলে।
. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে।
. ব্রণ আক্রান্তদের ব্যাবহৃত তোয়ালে, বিছানা, বালিশ ও চিরুনি ব্যবহার করলে।
. অতিরিক্ত ঘাম হলেও ব্রণ হতে পারে। কারণ, বেশি ঘাম হলে, জীবাণু, ময়লা, দূষণ আটকে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়, জন্ম নিতে পারে ত্বকের নানা সমস্যা।
. অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড চিজি পিজ্জা, মাংসের বার্গার বা পকোড়া, সিঙাড়া, ভাজাভুজি, মিষ্টি, চকোলেট, চর্বিযুক্ত ও মশলাদার খাবার, পেস্ট্রি, কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাদি খাবার স্কিনে ব্রণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্রণ হলে করনীয় কিঃ
. ব্রণ হোক বা না হোক, সবসময় ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
. দিনে দু-তিনবার কম ক্ষারযুক্ত সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখুন। দিনে কয়েকবার মুখে পানির ঝাপটা দিন। ব্রণে হাত বা নখ লাগানো যাবে না। তাই রোজ ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে উঠে ফেশওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হয় নিয়মিত।
নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করতে কেবল ফেসওয়াশ বা শাওয়ার জেলই যথেষ্ট নয়, মাঝে মাঝে স্ক্রাবার দিয়ে স্কিনের মৃত কোষগুলো এক্সফোলিয়েট করতে হয়। এতে জীবাণুর হামলা কমে। তবে খুব বেশি ব্রণের সম থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো কিছু ব্যবহার করা ঠিক নয়।
. তেলযুক্ত ক্রিম বা ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
. নিজের জন্য আলাদা তোয়ালে, চিরুনি ব্যবহার করুন।
. ত্বকের প্রকৃতি অনুযায়ী মেকআপ বেছে নিন। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মেকআপ তুলবেন। না হলে সারারাত ওই মেকআপ বসে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করে।
. মাথা খুশকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। কারণ যাদের খুশকির সমস্যা বেশি থাকে, তাদের ব্রণের সমস্যাও বেশি হয়।
. রাতে ৭/৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
. দুশ্চিন্তামুক্ত ও মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
. মৌসুমি ফল, শাকসবজি এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকলে তা দূর করতে হবে।
. ত্বকে সরাসরি যাতে রোদ না লাগে, এজন্য ছাতা ও সানগ্লাস ব্যাবহার করুন। শুষ্ক আবহাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
ব্রণ নিয়ে কিছু সতর্কীকরণঃ
১। ব্রণে হাত, নখ লাগাবেন না বা খুঁটবেন না। এতে আপনার হাতের ময়লা খুব তাড়াতাড়ি মুখের স্কিনে চলে যেতে পারে, ফলে দেখা দিতে পারে ইনফেকশন সহ নানা প্রকার রোগ। আবার বেশি খুঁটাখুঁটি করলে স্কিনে দাগ বা গর্তেরও সৃষ্টি হতে পারে।
২। ব্রণ থেকে তৈরি দাগ একসময় এমনি এমনি চলে যাবে, হয়তো একটু সময় লাগতে পারে। কিন্তু এই দাগ সারানোর জন্য অনেকেই নানান প্রসাধনী বা ক্যামিক্যাল ব্যাবহার করেন যা স্কিনের জন্য ভয়াবহ সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
ব্রণ অতিরিক্ত হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করা উচিত। না হলে অনেক সময় জটিলতা বাড়তে পারে।
এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…….. তিনা শুভ্র ।।
