…………………
আমরা যে ভাত খাই, তা হল এক ধরনের শর্করা বা কার্বো, যা শরীরকে চিনি বা গ্লুকোজের মাধ্যমে শক্তি দান করে। এই শর্করা বা কার্বো আবার সাধারণ এবং জটিল, দুরকমের হতে পারে।
সাধারন গঠনের শর্করা অস্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন ক্যান্ডি, সাদা রুটি, সাদা ভাত, বেকারির বিস্কুট, ক্যানজাত খাবার, মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এগুলোতে পাওয়া যায়। এগুলো হজমে শরীরকে সামান্য শক্তি খরচ করতে হয়, ফলে শরীর খুব সহজে তা করতে পারে।
অন্যদিকে, জটিল গঠনের শর্করা, যেমন, রেসিসটেন্ট স্টার্চ হজম করতে শরীরকে বাড়তি শক্তিও খরচ করতে হয় এবং এ জাতীয় শর্করা স্বাস্থ্যের জন্য অপেক্ষাকৃত ভাল। যেমন, লাল চাল, সিম, লাল আটা, ডাল, আলু, ইত্যাদিতে এজাতীয় শর্করা থাকে। অন্যান্য শর্করার মতো রেসিসটেন্ট স্টার্চ খাদ্যনালীতে হজম হয়ে শক্তি প্রদান করে না। বরং খাদ্যনালীর উপকারী ব্যাকটেরিয়া এগুলোকে কাজে লাগায়। ফলে সেটাও শরিরের জন্য উপকার বয়ে আনে। তুলনা করলে দেখা যায়, প্রতি গ্রাম রেসিসটেন্ট স্টার্চ যেখানে ২.৫ ক্যালরি শক্তি দেয়, সাধারণ স্টার্চ সেখানে শক্তি দেয় প্রায় ৪ ক্যালরির সমান। তাই ওজন কমাতে হলেও রেসিসটেন্ট স্টার্চ উপকারী।
আমরা প্রতিদিন, যে সাদা চালের সাধারণ ভাত খাই, তাতে কিন্তু রেসিসটেন্ট স্টার্চ থাকে না। তবে আমরা যদি একটু অন্য রকম করে ভাতটা রান্না করি, তাহলে খুব সহজেই ভাতের সাধারণ স্টার্চ, রেসিসটেন্ট স্টার্চ এ পরিবর্তিত হতে পারে। আর তখন ঐ পদ্ধতির রান্না করা ভাত খেলেও ওজন কিংবা রক্তের সুগার তেমন বাড়বে না।
ভাত রান্নার পদ্ধতিঃ
. প্রথমে চালগুলো ভালমতো কচলিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
. পাতিলে পানি ফুটতে দিতে হবে।
. পানি ফুটে গেলে তাতে ধুয়ে রাখা চাল দিয়ে, ভালমতো ( ২০/২৫ মিনিট) ফুটিয়ে রান্না করতে হবে। কেউ চাইলে ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল দিতে পারেন।
. চাইলে মাড় ফেলে দিতেও পারেন, কিংবা বসা ভাতও করতে পারেন।
. এখন ভাতগুলো সাধারণ রুম টেম্পারেচারে রেখে ঠাণ্ডা করুন, ঠাণ্ডা হলে সাথে সাথে ফ্রিজে রেখে দিন ৩/৪ ঘণ্টার জন্য।
. পরিবেশনের আগে মাইক্রো ওভেনে বা চুলায় আবার গরম করে নিন এবং পরিবেশন করুন।
*** এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে করনীয় কাজ হোল ৩ টি, ভাত অনেকক্ষণ ধরে রান্না করা, ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করা এবং খাবার আগে পুনরায় গরম করা।
কারণ, যখন চাল রান্না করা হয় তখন তার ভিতর থেকে স্টার্চ বের হয়। এবং যখন সেই রান্না করা ভাত ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করা হয়, তখন ভাতের এই সাধারণ স্টার্চ, একটি রেসিসটেন্ট স্টার্চ এ পরিণত হয়। এটা এমন একটি প্রিবায়োটিক ফাইবারে পরিণত হয়, যা আমাদের খাদ্যনালীর ব্যাকটেরিয়া গুলোকে খাবার দেয়, ফলে খাদ্যনালী থাকে সুস্থ।
এই রেসিসটেন্ট স্টার্চ, খারাপ বা LDL কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যও কমায়।
রেসিসটেন্ট স্টার্চ ওজন কমাতে সাহায্য করে, কারণ এতে ক্যালোরি কম থাকে। রেসিসটেন্ট স্টার্চ এ ফাইবার বেশি থাকে, যা তৃপ্তি বাড়ায় এবং ক্ষুধার অনুভূতি কমায়, যা ওজন কমানোর জড়িত।
তবে কারো কারো ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত রেসিসটেন্ট স্টার্চ খেলে, খাদ্য হজম এবং বিপাককে ধীর করে দিতে পারে,পেট ফাঁপা বা পেটে গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে।
চেষ্টা করুন খাবার সময়, ভাত পরিমাণে কম খেতে এবং এর সঙ্গে মাপসই করে শিম জাতীয়/ডাল, মটরশুঁটি, শাক-সবজি ইত্যাদি রাখুন।
এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…….. তিনা শুভ্র ।।
