ঈদে বা যেকোনো দাওয়াতে, যদি কেউ বেশি খেয়ে ফেলেন , তাহলে কি করতে হবে…..

……………….

পছন্দের খাবার খেতে সবাই ভালোবাসে। কখনো কখনো, পছন্দের খাবার খেতে খেতে আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি। বিশেষ করে ঈদের সময় অতিরিক্ত খাওয়াটা আনকমন নয়। অনেকেই আছেন যারা অতিরিক্ত খাওয়ার পর এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগেন। কেউ কেউ আবার অস্বস্তি বোধ করেন। এক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে শান্ত থাকুন। নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করুন এবং পরবর্তী সময়ে খাওয়ার বেলায় সচেতন থাকুন।

আর যদি কেউ অতিরিক্ত খেয়েই ফেলেন, সেক্ষেত্র কি করবেন:

১। খাবার খাওয়ার সময় যখনই মনে হবে আপনি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন, তখনই খাওয়া বন্ধ করে দিন। অনেকেই আছেন, বেশি খাচ্ছেন, সেটা বুঝতেও পারছেন কিন্তু খাওয়া বন্ধ করছেন না। কেউ কেউ আবার প্লেটের খাবার নষ্ট হবে ভেবে সবটুকু খেয়ে নেন, যা করা মোটেই ঠিক নয়।
খাবার সময় নিয়ে ভালমতো চিবিয়ে খান। একসঙ্গে বেশি খাবার নিয়ে বসে দ্রুত খাওয়ার কারণেও অতিরিক্ত খাওয়া হয়। কারণ দ্রুত খাবার খেলে মস্তিষ্ক টের পায় না কতটুকু খাওয়া হচ্ছে। তখন নিজের অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়।
খাবার খাওয়ার সময় গল্প করা, ফোনে কথা বলা ও টিভির মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। এর ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া হয়।

২। বেশি খাবার খাওয়ার পর কখনো শুয়ে পরবেন না। এর ফলে খাবার হজম ঠিকমতো হবে না। এতে অ্যাসিডিটি বেড়ে যাবে, পেট ফুলে যাবে এবং বুকে ব্যথা ও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। সম্ভব হলে খাওয়ার পর হালকা চলাফেরা করুন, থালা বাসন ধুয়ে ফেলতে পারেন, রান্নঘর গুছিয়ে রাখতে পারেন। এতে কিছুটা পরিশ্রম হবে, যা আপনার শরীরের জন্য উপকারী।

৩। অতিরিক্তি খাবার খেলে তা চিনি হিসেবে রক্তে প্রবেশ করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার দ্রুত হজম হবে।
খাওয়ার এক / দেড় ঘন্টা পর, হালকা হাঁটাহাঁটি করতে হবে, যাতে হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে ও খাবার নিচে নামতে থাকে। ৩০/৪৫ মিনিট হালকা হাটাহাটিই যথেষ্ট। কিন্তু, ব্যায়াম বা জগিং করা যাবে না।
যেদিন মনে হবে, আপনি অন্যদিনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেছেন, সেদিন একটু বেশি সময় হাঁটাহাঁটি করুন, যেন বাড়তি ক্যালরি ঝরে পরে। এক্ষেত্রে ঘাম ঝরিয়ে জোরে জোরে হাঁটলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। তবে ভরপেটে কখনোই হাঁটবেন না।

৪। খাওয়ার দেড় ঘন্টা পর থেকে, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া শুরু করতে হবে, হজমের জন্য। পেট হয়তো ভরা থাকবে, তবুও অল্প অল্প করে বারে বারে পানি পান করতে হবে। তবে কোন কোল্ড ড্রিঙ্কস পান না করাই ভাল।

৫। খাওয়ার পর চাইলে যে কোন পিপারমিন্ট এর ক্যান্ডি খেতে পারেন। পিপারমিন্টে মেনথোল থাকে, যা গ্যাস, বদ হজম, বমি বমি ভাব কমায়। বাজারে অনেক নামে পিপারমিন্ট ক্যান্ডি পাওয়া যায়, যেমন, tic tac mint, eclipse mint, mentos mint, centre fresh mint ইত্যাদি।

৬। চাইলে চিনি ছাড়া চুইংগাম চাবাতে পারেন। খাওয়ার পর চুইংগাম চাবালে পর্যাপ্ত লালা বের হয়, যা এসিডিটি কমাতে সহায়তা করে।
রীরের ওপর চাপ পড়ে এমন খাবার একগাদা খেয়ে ফেললে প্রোবায়োটিক জাতীয় খাবার যেমন টকদই খেতে দোষ নেই। উল্টো এটি আমাদের পাকস্থলী ও হজম ব্যবস্থাকে বাগে নিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে ভারী খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট পর দই খেলে উপকার মিলবে বেশি।

৭। খাওয়ার এক / দেড় ঘন্টা পর স্পাইসি লেবু পানিয় খেতে পারেন।

….লেবু পানি+ এক টে. চামচ ভিনেগার + এক চিমটি গোলমরিচের গুরা+ এক চিমটি লবণ ।
হালকা গরম খেতে হবে।।।
এতে হজম প্রক্রিয়ার গতি দ্রুত হবে।

৮। খুব বেশি গ্যাসের কষ্ট হলে, পেটের, নাভির ৪ আঙ্গুল উপরে এবং ৪ আঙ্গুল নিচে, হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ২/৩ মিনিট ম্যাসেজ করুন। এতে আরাম মিলবে।
( ছবিতে দেখুন)

৯। যদি দিনের বেলা অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়, তাহলে দিনের বাকি সময়টা পানি ছাড়া আর কিছু না খাওয়াই ভালো। তবে খিধা বেশি লাগলে হালকা ফলমূল ও সালাদ খেতে পারেন।

খাবার দেখেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে, আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করুন। নিজেকে সংযত করুন এবং পরিমিত আহার করুন। আর অতিরিক্ত খাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। এর ফলে পাকস্থলীর উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয় এবং খাদ্য ভালোভাবে পরিপাক হতে পারে না। যার দরুন খাদ্য হজমের নানা সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পেটেরও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকে অতিরিক্ত খাওয়ার পর বমি বমি ভাবসহ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগেন। যদি শরীর খুবই খারাপ হয়ে যায়; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্‍সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।

যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

…….. তিনা শুভ্র ।।

Leave a comment