………………
মিষ্টি জাতীয় খাবারে, চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। বেশি চিনি থাকা মানে বেশি ক্যালরি থাকা এবং বেশি ক্যালরি, শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে। এই কারণেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেলে, ওজন বেড়ে যেতে থাকে খুব তাড়াতাড়ি।
চিনি ছাড়াও মিষ্টির একটা বড় উৎস হল, নানা জাতের ফল। আমরা অনেকেই মনে করি, মিষ্টি ফল খেলে শরীরের ওজন বেড়ে যাবে, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ দেখা দিবে। কিন্তু ব্যাপারটা সত্য নয়। বরং পরিমাণ মতো ফল খেলে, তা হতে পারে আপনার পরম বন্ধু।
ফলে আছে প্রাকৃতিক চিনি, যা কেমিক্যাল ও কৃত্রিম চিনিমুক্ত। ফলের মধ্যে আলাদাভাবে চিনি যোগ করা হয় না, প্রাকৃতিকভাবেই সেটাতে মিষ্টি বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত চিনির চেয়ে, ফলের মিষ্টি সবসময়ই ভালো। ফলে থাকা এই প্রাকৃতিক মিষ্টি, রক্তে ধীরে ধীরে মেশে। এর কারণ হল, ফলে আছে প্রচুর খাদ্য আঁশ, যা দেহে ধীরে ধীরে ভাঙে, মানে শরীরে শোষিত হয় আস্তে আস্তে। যে কারণে ফলে থাকা চিনি, দ্রুত রক্তে মিশে না এবং রক্তের সুগারও তাড়াতাড়ি বাড়ায় না। অন্যদিকে প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত রক্তে মিশে, রক্তের সুগার তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে দেয়। আর এজন্য মিষ্টি ফল পরিমাণ মতো খাওয়াটা বাঞ্ছনীয়। আবার ফলের এই খাদ্য আঁশ বা ফাইবার, শরীরের ভেতর থেকে ক্ষতিকর চর্বিও বের করে দেয়। ফলে রক্তের খারাপ চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, সব ফল ইচ্ছামতো খাওয়ার সুযোগ নেই। যদি আপনি মাত্রাতিরিক্ত ফল খান, তখন এটি আপনার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি জমা করতে পারে। বেড়ে যেতে পারে ওজন কিংবা দেখা দিতে পারে নানান সমস্যা। বয়স, অসুস্থতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, পরিমিতভাবে ফল খেতে হবে। বিশেষ করে, ডায়াবেটিস রোগীদের মিষ্টি ফল হিসাব করে খেতে হবে এবং কিডনি রোগীদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ফল খাওয়া যাবে না।
ফল চিবানো এবং হজম হতে সময় লাগে যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ফল খেলে তৃপ্তির অনুভূতি হয় দ্রুত। আর ফল খেলে, অন্যান্য মিষ্টি খাবার খাওয়ার আকর্ষণও অনেকটা কমে যায়। কারণ ফল নিজেই একটা মিষ্টি খাবার। একারণে ভারী খাবারের পর, মিষ্টি কিছু খাওয়ার চাইতে ফল খাওয়া উপকারী।
ফলে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন, ভিটামিনস, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আঁশ ও প্রিবায়োটিকস শরীরের দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা যেমন, হার্টের নানান রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তের চর্বি, ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল, টাইপ 2 ডায়াবেটিস ইত্যাদির ঝুঁকি কমাতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে।
তাই বলা যায়, ফলের মিষ্টতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং দৈনিক খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ ফল যুক্ত করা, শরীরের জন্য উপকার বয়ে আনবে।
এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…….. তিনা শুভ্র ।।
