স্ট্রোক নিয়ে, দুটি কথা জেনে রাখুন আর বাঁচিয়ে দিন, আপনার আপনজনের প্রাণ। …………………………………..

স্ট্রোক এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। আর এ ব্যাপারে অল্প কিছু তথ্য বাঁচিয়ে দিতে পারে, আপনার আপনজনের প্রাণ। চলুন, স্ট্রোক নিয়ে দুটি কথা জেনে রাখি এবং অন্যকে জানাই।

স্ট্রোক হলো একটি জরুরি মেডিকেল অবস্থার নাম, যখন ব্রেইনে, রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়। ব্রেইনে রক্ত সরবরাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে, সেই অংশের সেল বা কোষ গুলো অক্সিজেন ও পুষ্টি না পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং দ্রুত চিকিৎসা নেয়া না হলে, স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুও ঘটতে পারে।

মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই দেরি না করে, অতি দ্রুত হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক।

আপনার আপনজন বা পরিচিত কারো মধ্যে, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কিনা, তা আপনি খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবেন, নিচের এই পরীক্ষার মাধ্যমে।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো, মনে রাখার জন্য ডাক্তাররা, একটা সহজ ট্রিক ব্যবহার করেন, সেটি হল, “FAST”, এটা একটা ইংরেজি শব্দ, কিন্তু সহজেই মনে রাখা যায়। FAST হলো স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলো, দ্রুত চেনার একটি সহজ উপায়। এটি মূলত Face (মুখ বেঁকে যাওয়া), Arms (হাত অবশ হওয়া), Speech (কথা জড়িয়ে যাওয়া), এবং Time (দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া) বোঝায়। লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে এবং হাসপাতালে নিতে হবে।

চলুন উদাহরণ সহ বুঝে নেই…

… F – Face (মুখ) মুখ বেঁকে যাওয়া, মুখের একপাশ হঠাৎ ঢিলে হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পরা হল, স্ট্রোকের একটি লক্ষণ। এক্ষেত্রে রোগীকে, হাসতে বললে, মুখের এক পাশে ঢলে পড়ছে কিনা পরীক্ষা করা যায়।

… A – Arms (হাত) শরীরের একপাশের হাত বা পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া, জোর না থাকা, এগুলি স্ট্রোকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এক্ষেত্রে রোগীকে, দু’হাত সামনে তুলতে বললে, এক হাত নিচের দিকে পরে যায় বা দুর্বল লাগে কিনা, তা পরীক্ষা করা যায়।

… S – Speech (কথা) কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট হওয়া, অথবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া, স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ। এক্ষেত্রে রোগীকে, সাধারণ বাক্য বলতে বললে, কথা বোধগম্য হচ্ছে কিনা বা কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কিনা, তা অনেকটাই বুঝা যায়।

… T – Time (সময়) ঠিক সময়ে নিন, সঠিক পদক্ষেপ। যেমন: উপরের দেওয়া লক্ষণগুলির মধ্যে, একটিও যদি দেখা যায় কারোর মধ্যে, তাকে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্‍সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা। যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

……তিনা শুভ্র ।।

Leave a comment