আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা কিছুতেই ওজন কমাতে পারছেন না। ডায়েটিং করছেন, ব্যায়াম করছেন আরও কত কি! আমি তাদেরকে বলবো, আপনারা যদি আপনাদের খাদ্যতালিকা থেকে শুধুমাত্র চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন, তাহলেই অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ওজন কমতে শুরু করবে আর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই লাগবে ঝরঝরে।
শুধু মাত্র চিনি খাওয়া বন্ধ করে, সুষম খাবারের অভ্যাস তৈরি করতে পারলে, ৬ মাসের মধ্যে ১০-১৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলা যায়। তবে সকলেরই যে একই নিয়মে ওজন কমবে, তা নয়। প্রতি ১ চামচ চিনির সঙ্গে প্রায় ১৯ ক্যালোরি শরীরে যায়।
শুধু ওজন বাড়িয়ে দেওয়া নয়, চিনি লিভারের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বহু দীর্ঘস্থায়ী অসুখ ডেকে আনে। চিনি বা চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো অসুখ ডেকে আনে। এ ছাড়া চিনির প্রভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে।
আবার অনেকে মনে করেন, ব্রাউন সুগার, মধু, গুড়, ম্যাপেল সিরাপ চিনির চেয়েও ভালো। কিন্তু এসব খাবারেও প্রচুর চিনি থাকে।
চলুন দেখে নেয়া যাক, খাবার থেকে পুরাপুরি চিনি বাদ দিলে কতটুকু ক্যালরি বা ওজন কমে…
সম্পূর্ণ চিনি বাদ দিলেঃ
১ম দিন = প্রায় ২০০ ক্যালরি কমে যায়।
১ সপ্তাহ = ১৪০০ ক্যালরি কমে যাবে আর ওজন কমানো যাবে আধা কেজি।
১ মাস = ২ কেজি ওজন কমানো যাবে।
২ মাস = ১-১.৫০ কেজি ওজন কমানো যাবে।
৩ মাস = ২.৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো যায়।
৬ মাস = ৩-৩.৫ কেজি ওজন কমানো যায়।
তবে মজার ব্যাপার হোল, আপনি যদি, চিনি বন্ধ করার পাশাপাশি রেগুলার ৪৫-৬০ মিনিট হাঁটেন এবং অন্যান্য শর্করা ও তেল জাতীয় খাবার কম খান, তাহলে আপনার ওজন আরও দ্বিগুন বা তিনগুন হারে কমতে থাকবে। একবার যদি চিনি ও শর্করা খাওয়া কমিয়ে ফেলেন, তাহলে শরীরে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমবে। শক্তি উৎপাদনের জন্য শর্করা না পেলে, শরীর চর্বি ভাঙতে শুরু করবে।
চিনি খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা সহজ। কাজটা মোটেও সহজ নয়। কারণ সিগারেট বা মদের মতো চিনিরও প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। একটা চাহিদা তৈরি হয়। অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ না খেলে আরও বেশি করে খেতে ইচ্ছে করে চিনি। তাই কিভাবে এই চিনির নেশা থেকে মুক্তি পাবেন, তা জানতে অপেক্ষা করুন…।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…… তিনা শুভ্র

চিনি ছাড়া বাকি সবকিছু বাদ দেয়া সম্ভব
LikeLike