জেনে নিন, আপেল শেইপের পেটের মেদ, কমানোর জন্য কি করতে হবে…এবং কিভাবে সাইকেল চালালে পেটের মেদ দ্রুত কমবে…

যেহেতু আপেল আকারের মেদ পেটের ঠিক মাঝখান বরাবর জমে, তাই যেকোনো ভাবেই হোক না কেন, এই মেদ দূর করতে চেষ্টা করতে হবে, হবে। আমাদের শরীরে, লিভার, স্প্লীন, হার্ট, ফুসফুস, কিডনি প্রভৃতি প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলো সবই ঠিক কোমরের উপরে থাকে। তাই শরীরের এই অংশে ওজন বেশি বেড়ে গেলে, এই অঙ্গগুলোর ওপর চাপ বেশি পড়ে। ফলে এই অঙ্গগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। দেখা দেয় শরীরে একের পর এক সমস্যা।
যাদের পেটের মেদের আকার আপেলের মতো, তাদের উচিত হবে নিচের ৫ টি কাজ করার, যেমন,

১। প্রতিদিন ৩০/৪৫ মিনিট জোরে জোরে সাইকেল চালানো বা জোরে জোরে হাঁটা বা ব্যায়াম করা।

২। পরিমিত পরিমানে, সঠিক খাবার খাওয়া, যা শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিশেষ ভাবে নির্বাচিত।

৩। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করা।

৪। পেট ক্লিয়ার রাখা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা।

৫। রাতে ৭/৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা।

৬। যেকোনো মানসিক সমস্যা বা দুশিন্তা বা অশান্তি রোগ থাকলে, অতিদ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

আজ আমরা আপেল শেইপ মেদের জন্য, কি ধরনের ব্যায়াম করতে হবে তা নিয়ে কথা বলবো,

পেটের আপেল আকারের মেদ কমানোর জন্য, নানা ধরনের ব্যায়াম রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ব্যায়াম হোল কার্ডিও ব্যায়াম, যা করতে গেলে, আপনি হাঁপিয়ে যাবেন, জোরে জোরে শ্বাস নিবেন এবং আপনার হার্ট রেট বেড়ে যাবে। ফলে আপনি আপনার শরীরে জমে থাকা ফ্যাট ভাংতে পারবেন খুব সহজেই। তবে আপনাকে প্রতিদিন চালিয়ে যেতে হবে এই কার্ডিও ব্যায়াম। এই ব্যায়ামগুলো হোল, জোরে জোরে হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি।

এদের সবগুলোর মধ্যে ব্যায়ামের সাইকেলে, সাইকেল চালানো সবচেয়ে দ্রুত ওজন কমাতে পারে। সাইকেল চালালে, শরীরের বাড়তি ওজনের সাথে সাথে, পেটের বাড়তি থলতলে মেদও ঝরে যাবে খুব সহজেই। সাইকেল চালানো শুধু শরীরের মেদই নয়, হাই ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, ফুসফুসের রোগ ইত্যাদি রোগের নিয়ন্ত্রনেও সাহায্য করে থাকে।

জেনে নিন, কিভাবে সাইকেল চালালে পেটের মেদ দ্রুত কমবেঃ

১। প্রতিদিন ৩০/৪৫ মিনিট একটানা চালাতে হবে। প্রথম প্রথম অল্প অল্প করে শুরু করতে হবে, আস্তে আস্তে সময় বাড়াতে হাবে। শরীরে কোনভাবেই চাপ দেয়া যাবে না।

২। সাইকেল, বেশি আস্তে আস্ত্রে না চালিয়ে মাঝারি থেকে হাই স্পীডে চালাতে হবে।
চেষ্টা করতে হবে পুরা ৩০/৪৫ মিনিটই, কিছুটা সময় মাঝারি স্পীডে, কিছুটা সময় হাই স্পীডে চালাতে। এতে ফ্যাট ভাঙ্গার হার বহুগুন বেড়ে যায়।

৩। সাইকেল চালানোর সময় প্রথম ৫ মিনিট আস্তে আস্তে সাইকেল চালিয়ে, শরীরকে ওয়ার্ম আপ করে নিতে হবে। তা না হলে, আপনার পায়ের এবং কোমরে ব্যথা হতে পারে।
ঠিক তেমনিভাবে, সাইকেল চালানোর শেষে ৫ মিনিট আস্তে আস্তে চালিয়ে, শরীরকে কুল ডাউন করতে হবে। এতে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পরবে না।

৪। যদি সাইকেল চালানোর মাধ্যমে আরও বাড়তি ফ্যাট ঝরাতে চাইলে, সাইকেলের রেসিস্টেন্ট বাড়িয়ে নিতে পারেন।

…… চলবে।

যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

………তিনা শুভ্র ।

Leave a comment