………………..
খুশকি আমাদের শরীরের অন্যতম একটি সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বলা হয়। তবে খুশকি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।
সেবোরিক ডার্মাটাইটিস এক ধরনের চর্মরোগ, যা সাধারণত মাথার ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই রোগের কারণে আক্রান্ত স্থান লাল ও খসখসে হয়ে যায় এবং চুলকানি ও খুশকি দেখা দেয়।
খুশকির কারণঃ
নানা কারণে খুশকি হতে পারে। এক ধরনের ফাঙ্গাস আছে যার নাম ম্যালেসেজিয়া। সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথার ত্বকে এই ম্যালেসেজিয়া ফাঙ্গাস অল্প পরিমাণে থাকে এবং তেমন কোন সমস্যার সৃষ্টি করে না। তবে কোন কারণে মাথার ত্বকে ফাঙ্গাসটির পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে, তা খুশকির কারণ হয়ে থাকে।
খুশকি তৈরির প্রধান কারণগুলো হোল..
. শুষ্ক ত্বক খুশকির একটা সাধারণ কারণ।
. চুল যথেষ্ট পরিমাণে না আঁচড়ানো।
. মাথায় অতিরিক্ত তেল ব্যাবহার করা এবং পরবর্তীতে তা শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার না করা।
. গোসলের সময় চুল ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে বা পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্যাম্পু ব্যবহার না করলে।
. অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে।
. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।
. অপরিষ্কার ও নোংরা পানি ব্যাবহার করলে।
. ভেজা চুল ঠিকমতো না শুকিয়ে, বেঁধে রাখা।
কি করলে খুশকি থেকে আরাম মিলবেঃ
খুশকির জন্য যদি ব্যক্তিবিশেষে রোগগুলো নির্ণয় করে চিকিৎসা করা হয়, তবে অনেক ভালো ফল পাওয়া য়ায়। আর যদি অনুমানভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, তবে তেমন ভালো ফল আসে না। যদি কারো ব্যাকটেরিয়ার কারণে চুলের খুশকি হয়, তবে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে, ফাংগাস সংক্রমিত হলে অ্যান্টিফাংগাল ওষুধ, আর অ্যালার্জির কারণে খুশকি হলে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ সেবন করতে হবে। আর কোন ধরনের ওষুধ ব্যাবহার করবেন, সেজন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।
সাধারণত, মাথার ত্বকে ম্যালেসেজিয়া নামক ফাঙ্গাসের পরিমাণ কমিয়ে আনা বা নস্ট করতে পারলেই খুশকি কমে যাওয়ার কথা। তাই খুশকি দূর করার জন্য ডাক্তারগণ ফাঙ্গাস নাশক শ্যাম্পু কিটোকোনাজল (Ketoconazole 2%) ব্যবহারের উপদেশ দিয়ে থাকেন।
এই শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়ম হলো খুশকি দূর করার জন্য, কিটোকোনাজল ২% শ্যাম্পু মাথায় লাগিয়ে, ৫/৭ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর চুল ভালভাবে শুধুমাত্র পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, তখন কোন শ্যাম্পু বা সাবান ব্যাবহার করা চলবে না। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করে ২-৪ সপ্তাহ ব্যবহারে খুশকি কমতে থাকবে। এছাড়াও এই শ্যাম্পুটি সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে, ত্বকের তৈলাক্ত উপাদান নিঃসরণ কমিয়ে আনে, যার ফলে খুশকি দূর হয়। তবে যদি কারো ইনফেকশন হয়ে যায় বা চুলকানি বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা লাগতে পারে।
বাজারের প্রায় সব ফার্মাসিতেই, বিভিন্ন নামে, এই শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়।
এই রোগের লক্ষণগুলো সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব এবং ত্বক এর কোন ধরনের ক্ষতি ছাড়াই এর চিকিৎসা করা যায়। চিকিৎসা করা না হলে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সেজন্য এই রোগ হলে, দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…….. তিনা শুভ্র ।।
