………………………..
প্রায়ই আমাদের হাতের কিংবা পায়ের আঙ্গুলের চিপায়, ফাঁকগুলো লাল হয়ে যায়, প্রচণ্ড চুলকায়, ফুসকুড়ির মতো হয়, আবার কখনও ঐ জায়গার চামড়া ফেটেও যেতে পারে। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, মোটামুটিভাবে, যাদের পা সবসময় ভেজা থাকে, তারাই এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এছাড়া একই মোজা বারবার পরলে এবং সারাদিন আঁটসাঁট জুতা পরার কারণে, পা যদি সবসময় ঘেমে থাকে, তাহলেও এটা হবার সম্ভাবনা থাকে। সবসময় পা ভিজা থাকলে কিংবা ঘেমে থাকলে, সেখানে ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে থাকে। আর এই ফাঙ্গাসের কারণেই দেখা দেয় চুলকানি। এটি একটি সংক্রামক রোগ। সংক্রমিত ব্যক্তির কাপড়, মোজা, তোয়ালে, বিছানা ব্যবহার করলে অন্য ব্যক্তিও এই রোগ হতে পারেন।
কি করলে আরাম মিলবেঃ
১। হাতের বা পায়ের আঙ্গুলের ফাঙ্গাসের এই সংক্রমণ এড়াতে পায়ের শুষ্কতা ও পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বা আর্দ্রতায় সহজেই ফাঙ্গাসের বিকাশ হয় বলে, পা দুটিকে সবসময় শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে হবে। আঙুলের ফাঁক ভেজা মনে হলে, সাথে সাথে তা পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে চেপে শুকিয়ে নিতে হবে।
২। আক্রান্ত স্থানটি সাধারণত সাবান ও পানি দিয়ে দৈনিক দুই/তিন বার পরিষ্কার করতে হবে এবং ভালভাবে শুকাতে হবে। তারপর ডাক্তারের পরামর্শ মতো এন্টিফাঙ্গাল মলম বা পাউডার লাগাতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম, পাউডার, স্প্রে বা মলম লাগালে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের নিরাময় হয়। এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম, জেল, স্প্রে, পাউডার বা মলমগুলিতে সাধারণত ক্লোট্রিমাজোল, মিকোনাজোল, টারবিনাফিন, কেটোকোনাজোল ইত্যাদি উপাদান থাকে, যা ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী। তবে কোন ক্রিম বা মলম কখন ও কিভাবে ব্যাবহার করবেন, তারজন্য দরকার একজন ডাক্তারের পরামর্শ।
৩। প্রতিবার অজু বা গোসলের পর, পা ভিজে গেলে ভালো করে তোয়ালে বা গামছা দিয়ে চেপে চেপে পানি শুকিয়ে নিতে হবে।
৪। কোনভাবে যদি পায়ে পানি লাগে, তাহলে সাথে সাথে ভালো করে পা ও আঙুলের ফাঁকগুলো শুকাতে হবে।
৫। প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা ব্যাবহার করুন। মোজা পরলে অবশ্যই পাতলা সুতির মোজা ব্যবহার করবেন। কারণ এ ধরণের মোজার মধ্য দিয়ে পায়ে বাতাস পৌঁছতে পারে ও পায়ের ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে পারে।
৬। জুতা কেনার সময় প্লাস্টিক কিংবা সিনথেটিক জুতা না কিনে, চামড়ার জুতা কিনে ব্যবহার করুন। কারণ চামড়ার জুতাতে বাতাস প্রবেশ করে এবং জুতার ভিতর শুকনো থাকে, যেটা প্লাস্টিক বা সিনথেটিক জুতাতে সম্ভব হয় না।
৭। কার্পেট বিছানো কিংবা সাধারণ মেঝের ওপর খালি পায়ে হাঁটা উচিত নয়। এক্ষেত্রে পাতলা স্যানডেল ব্যাবহার করতে পারেন।
আঙ্গুলের ফাঁকের এই চুলকানির চিকিৎসাই হল, আক্রান্ত স্থান শুকনো রাখা এবং ডাক্তারের পরামর্শ মতো এন্টিফাঙ্গাল মলম, ক্রিম ব্যবাহার করা। আর এই চুলকানিকে অবহেলা করলে, পরবর্তীতে তা গুরুতর সংক্রামণের আকার নিতে পারে। তাই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
…….. তিনা শুভ্র ।।
