…………………..
সাধারণত, ৪০-৫৫ বছর বয়সে, একজন নারী মেনোপজের সময় অতিক্রম করেন। মেনোপজ হচ্ছে, নারীদেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মূলত ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাবার কারণেই মেনোপজ হয়। আর, এই
ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতির জন্য যেসব সমস্যা হয়, তার মধ্যে হাড় ক্ষয়জনিত রোগ (অস্টিওপোরোসিস) এবং হৃদ রোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আজ আমরা এই হাড় ক্ষয়জনিত রোগ বা অস্টিওপোরোসিস নিয়ে আলোচনা করবো।
হাড় ক্ষয়জনিত রোগ বা অস্টিওপোরোসিসে, হাড় ধীরে-ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। দেখা যায়, হাড়ের ওজন বা ঘনত্ব অনেকটাই কমে গিয়েছে। একইসঙ্গে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে সমস্যার ব্যাপার হল, ঠিক কখন হাড় দুর্বল হতে শুরু করেছে, তা প্রায়ই বোঝা যায় না। এই কারণে সঠিক সময় চিকিৎসাও শুরু হয় না। যেহেতু শরীরের হাড় দুর্বল হয়ে পড়াই মূল কারণ, তাই জটিলতা হিসেবে সহজেই, বিভিন্ন জায়গায় হাড় ভেঙে যেতে দেখা যায়, যার মধ্যে মেরুদণ্ড, ঘাড়-কোমর, নিতম্ব, বাহু বা হাতের হাড় ভাঙার প্রবণতা বেশি।
তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাড় ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত, এ রোগ উপসর্গহীন থাকে। তাই যারা মেনপোজে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা করে, রোগটির অবস্থা সম্পর্কে জেনে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে, হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমে আসে।
হাড় ক্ষয় এড়াতে যা করবেনঃ
একটু সতর্ক থেকে জীবনযাপন করলেই হাড় ক্ষয় এড়ানো সম্ভব।
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
১। পুষ্টিবিদরা ব্যাখ্যা করেন যে, উদ্ভিদ উৎস থেকে পাওয়া খাবারে রয়েছে, ফাইটোস্ট্রোজেন, যা শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ফাইটোস্ট্রোজেন মেনোপজ বা অন্যান্য হরমোন-সম্পর্কিত অবস্থার লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তাই চেষ্টা করুন, প্রাণী উৎস থেকে আসা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে, উদ্ভিদ উৎস থেকে আসা খাবারের পরিমাণ যথাসম্ভব বাড়িয়ে দিতে।
২। সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। কারণ শাকসবজিতে, ভিটামিন , ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি ভরপুর থাকে।
৩। মাছ খাওয়ার অভ্যাস বাড়িয়ে দিন। মাছে পাওয়া যায়, প্রচুর ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের জন্য ভাল।
৪। প্রতিদিন সকালের রোদে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। সূর্যের আলো, আপনার ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করবে, যা হাড়ের জন্য জরুরি।
৫। ফ্যাট ফ্রি দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য । দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন ডি, যা হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৬। বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বিভিন্ন রকমের বিচি, বিভিন্ন রকমের ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, সয়া বিন ইত্যাদি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। এগুলোতে আছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি, যা আপনার হাড়কে মজবুত করবে।
৭। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, যেমন হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, বা সাইকেল চালানো ইত্যাদি, যা আপনার হাড়কে রাখবে সুস্থ।
৮। ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করুন।
৯। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
১০। হরমোন থেরাপি (এইচআরটি) আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা, তা ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
আপনি কোনও ভাবেই মেনোপজকে, প্রতিরোধ করতে পারবেন না। এটা একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আপনি অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়কে প্রতিরোধ করতে পারবেন, হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি, আপনার খাবারের তালিকা ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তন অত্যাবশ্যকীয়। আর এজন্য, একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিত্সা নয়, শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোন ভাবেই, এটিকে প্রেসক্রিপসন বা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবেনা।
যেকোনো রোগ বা সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
……তিনা শুভ্র ।
………………………….. (চলবে)
………
