নিন্দিত স্বর্গে

অস্তিত্ববাদী জাহিদের পরাবাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো : পর্ব ৫   ১ সম্ভবত মৃত্যু আর তৎপরবর্তী কবর ধরণের অভিজ্ঞতার পর পর যখন তার চেতনা ফিরে এলো তার কাছে, জাহিদ চোখ খুলে নিজেকে আবিষ্কার করলো একটা চৌরাস্তার মোড়ে। আকাশে ঘোলাটে একটা আলো, তাই বোঝা যাচ্ছে না এটা কি ভোর নাকি সন্ধ্যা, আর কোন একটা কারণে সবকিছু সে সাদা-কালো দেখছে … Continue reading নিন্দিত স্বর্গে

ছায়াহীন

অস্তিত্ববাদী জাহিদের পরাবাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো: পর্ব ৪ ১ ঘুমাতে যেতে ভয় লাগে জাহিদের। রাত এগারোটা বাজলে তার মনে হয়, মাত্র সন্ধ্যা হলো, এখনো অনেক কাজ বাকি। সাড়ে এগারোটার দিকে সে তার যাবতীয় কাজকর্ম শুরু করে - গতমাসের বিলের হিসাব মেলানো, বাড়িভাড়ার রশিদ গোছানো, ফেলে রাখা বাকি কাজ অফিসের, ইত্যাদি। ইউটিউব আর ফেসবুক তো আছেই। এই করতে … Continue reading ছায়াহীন

মোজেজা     

অস্তিত্ববাদী জাহিদের পরাবাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো : পর্ব ২ ১ জাহিদ যখন ইংল্যান্ডে পিএইচডি করছে, তখন লুবনা সিদ্দিকার সাথে তার পরিচয় হয় - ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। লুবনা সাহিত্যে মাস্টার্স করছিলো এডিনবার্গ-এই। জাহিদ একদিন ক্যান্টিনে বসে স্টারবাকস-এর কালো কফি খাচ্ছিলো আর দর্শনের একটা জার্নালে চোখ বুলাচ্ছিলো। লুবনা এসে তার সামনে বসলো, তারপর স্পষ্ট বাংলায় বললো - "আপনি বাঙালি, তাই … Continue reading মোজেজা     

কুহক  

১. স্কুলে পড়ার সময় থেকেই মাথার ভেতর এক ধরণের ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ শুনতে পান জামান। প্রথমে ডান কান থেকে শুরু হয় পোকা-মাকড়ের গানের মতো এই শব্দটা, তারপর সেটা যায় বাঁ কানে, শেষে ঠিক মাথার মাঝখানে - অনেকটা হেডফোনে গান শোনার মতো অনুভূতি হয় তখন, যদিও এই গুঞ্জনগুলো কখনোই সংগীতের মতো স্বস্তিদায়ক কিছু না। এটা … Continue reading কুহক  

যেদিন আমরা চলে যাবো

যেদিন আমি মারা যাবো,ভুলেও চোখের পানি ফেলো না,ভারী করে তুলো না তোমার পটে আঁকা চোখ দুটো।আমি যদি ভালো লোক হয়ে থাকি,তাহলে আমার আত্মা ভালোই থাকবে মৃত্যুর ওপারে।আর আমি যদি অশুভ মানুষ হয়ে থাকিআমার প্রস্থান পৃথিবীর জন্য তো সুসংবাদই বটে। যেদিন আমি চলে যাবো,দিনটাকে খুশি মনে উদযাপন কোরো,সম্ভব হলে, সামর্থ্যে কুলালেভালো কোনো খাওয়া এনে খেয়ো বাজার … Continue reading যেদিন আমরা চলে যাবো

ইন্টারভিউ

বাসে উঠে পেছনের দিকের জানলার পাশে একটা সিটে গিয়ে বসলাম। তিনটার মতো বাজে, ভেতরে তেমন একটা ভিড় নেই। তবে ঘেমে চলেছি এখনো, বাস ছাড়লে আশা করা যায় শরীরটা একটু জিরোবে। আরো দুএকজন যাত্রী উঠিয়ে গাড়িটা বাড্ডার দিকে রওয়ানা হতেই লোকটা দৌড়ে বাসে উঠলো। শুকনো মুখ, বসে যাওয়া গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি - বয়স খুব বেশি … Continue reading ইন্টারভিউ

একসিডেন্ট

মেয়েটাকে মাইক্রোতে তুলে নিতে ওদের কোনো সমস্যাই হলো না, শিকার যেন নিজে থেকেই এসে শিকারির জালে ধরা দিলো। উত্তপ্ত দুপুর। আকাশে এক ফোটা মেঘ নেই। নগ্ন সূর্য দৃষ্টিগুলোকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে অন্ধ করে দিতে চাচ্ছে। মেয়েটা রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে ছিল – ছিপছিপে গড়ন, কিন্তু বড়ো বড়ো চোখ, কালো চুল দুই পাশে বেণী করা। ষোলো-সতেরো বছরের একটা … Continue reading একসিডেন্ট

সিদ্ধেশ্বরী লেনের নিৎসে

সিদ্ধেশ্বরী লেনের নিৎসে ১ . সিদ্ধেশ্বরী লেনের মনোয়ারা ক্লিনিকে গম্ভীর মুখে জন্ম নিলো এক শিশু। বাচ্চারা জন্মানোর পর কেঁদে ওঠে, কিন্তু সে কাঁদলো না। রাজীব সাহেবের ভ্রু জোড়া অনেকটা সময় ধরে ভীষণভাবে কুঁচকে রইলো। ডিউটি ডাক্তার তখন দৌড়ে এলো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানালো - শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ আছে, বাচ্চারা জন্মানোর পর কেঁদে ওঠে ঠিকই, কিন্তু না … Continue reading সিদ্ধেশ্বরী লেনের নিৎসে

এক পরী আর এক ডাইনীর গল্প

১. সেটা ছিল ফাগুন মাসের গোলাপি রোদের এক বিকেল। নিউমার্কেটের ভেতরে খোলা চত্বরে আমি লাবনীর হাত ধরে হাটছিলাম আর মাঝে মাঝে ওর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিভাবে ওর রেশমি চুলগুলো বাতাসে বারে বার ওর ফর্সা গালকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়। বইয়ের দোকানগুলোর সামনে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে ও যখন আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি ওর সাথে প্ল্যানচেটের একটা আসরে … Continue reading এক পরী আর এক ডাইনীর গল্প

সক্রেটিস

১. এথেন্স শহরের এক রোদেলা দুপুর। রুটি বানাতে যেয়ে জগৎ সংসারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লেন সিনোরা জেনথিপি। তার সিনোর ছিলেন উঠোনে বসা, বিষন্নতার প্রথম ঝড়টা ভদ্রলোকের ওপর দিয়েই বয়ে গেল। মুখ বুজে বেশ কিছুক্ষন স্ত্রীর বাক্যবাণ হজম করার পর অপরাহ্ণ ভ্রমণে বের হওয়াই সমীচীন মনে করলেন সক্রেটিস। গ্রিক এই দার্শনিক হাটতে শুরু করলেন লাইকাবেটোস পর্বতের … Continue reading সক্রেটিস